প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 17, 2026 || প্রকাশের তারিখঃ Jan 17, 2026
ভোলা–২ আসন: জোট রাজনীতির জটিল সমীকরণ
ভোলা–২ আসন: জোট রাজনীতির জটিল সমীকরণ
ভোলা–২ সংসদীয় আসন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ চলছে। আবিদ হাছানের এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এই আসনের ভেতরের বাস্তব চিত্র, সাংগঠনিক শক্তি-দুর্বলতা এবং আসন্ন নির্বাচনে সম্ভাব্য ফলাফলের একটি পূর্বাভাস।
ভোলা–২ আসনটি মূলত দুইটি উপজেলা—বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান—নিয়ে গঠিত। বিশ্লেষকের মতে, এই আসনে জামায়াতে ইসলামীকে সাংগঠনিকভাবে শক্ত অবস্থানে আছে—এমন দাবি বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
বোরহানউদ্দিন উপজেলায় জামায়াতের সাংগঠনিক কাঠামো তুলনামূলকভাবে কিছুটা গোছানো হলেও দৌলতখান উপজেলায় দলটির সংগঠন দুর্বল। এমনকি দৌলতখানের কয়েকটি ইউনিয়নে জামায়াতের সাংগঠনিক উপস্থিতি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে এই সাংগঠনিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও জামায়াতের পূর্বে মনোনীত প্রার্থী মাওলানা ফজলুল করিম তার ব্যক্তিগত প্রজ্ঞা, ব্যক্তিত্ব ও দীর্ঘদিনের জনসংযোগের মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। এক পর্যায়ে তিনি জয়ের সম্ভাবনাময় অবস্থানেও পৌঁছে যান।
আবিদ হাছান স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন, এই সম্ভাবনাময় অবস্থান জামায়াতের সাংগঠনিক শক্তির কারণে তৈরি হয়নি। বরং এটি সম্পূর্ণভাবে গড়ে উঠেছে ফজলুল করিমের ব্যক্তিগত যোগ্যতা, প্রজ্ঞা ও জনমনে গ্রহণযোগ্যতার ওপর ভিত্তি করে।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে এলডিপির মহাসচিবের একটি সাক্ষাৎকার পর্যবেক্ষণ করে ধারণা করা যায়—ভোলা–২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী জয়ের সম্ভাবনায় থাকায় এলডিপি জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোটে যুক্ত হয়েছে। তবে এখানেই একটি বড় রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকের মতে, জামায়াতের প্রার্থী জনমনে জনপ্রিয় হয়েছেন জোটের কারণে নয়, এমনকি শুধুমাত্র জামায়াতের পরিচয়ের কারণেও নয়। বরং তিনি জনপ্রিয় হয়েছেন তার ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও দীর্ঘদিনের মাঠপর্যায়ের কাজের কারণে। ফলে এই জনপ্রিয়তাকে জোটগত কোনো সম্পদ হিসেবে ধরে নেওয়া একটি ভুল রাজনৈতিক হিসাব হতে পারে।
এই বাস্তবতায় আবিদ হাছানের মূল্যায়ন, জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোটের অধীনে ভোলা–২ আসনে এলডিপির কোনো প্রার্থী দাঁড়ালে তার পরাজয় প্রায় নিশ্চিত। কারণ সাধারণ ভোটাররা এখানে দলীয় পরিচয়ের চেয়ে ব্যক্তিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, এলডিপির প্রার্থী ভোলা–২ আসনে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করার প্রত্যাশা নিয়ে নির্বাচন করছেন, এমন বিশ্বাস করার সুযোগ খুব কম। বরং তাঁর লক্ষ্য হলো জামায়াতের তৈরি করা শক্ত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে নিজে এমপি হওয়া।
আবিদ হাছানের ভাষায়, ভোলা–২-এর সাধারণ মানুষের জন্য এলডিপির প্রার্থীকে ভোট দেওয়া মানে “নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারা।” কারণ এতে দীর্ঘদিনের সম্ভাবনা, জনআস্থা ও মাঠপর্যায়ের শ্রম নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সবশেষে তিনি মনে করেন, ভোলা–২ আসনের রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত না নিলে শুধু একটি আসন নয়—বরং মানুষের বিশ্বাস ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে।
বিশ্লেষক: আবিদ হাছান