প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 17, 2026 || প্রকাশের তারিখঃ Jan 21, 2026
গুজব ও বিতর্কের মুখে ডা. এস এম খালিদুজ্জামান: চিকিৎসা ক্ষেত্রে অবদান তুলে ধরলেন সহকর্মী
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ঢাকা-১৭ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও চিকিৎসক ডা. এস এম খালিদুজ্জামানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ও গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। এ প্রেক্ষাপটে তার চিকিৎসা ক্ষেত্রে অবদান ও যোগ্যতা তুলে ধরে বক্তব্য দিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও ব্যথা বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আহাদ হোসেন।
ডা. আহাদ হোসেন তার লিখিত বক্তব্যে জানান, ডা. খালিদুজ্জামান তার ব্যাচমেট এবং তিনি বাংলাদেশে এমব্রায়োলজি বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনকারী অগ্রগামী ব্যক্তিদের একজন। ২০১৬–২০১৭ সালের দিকে তিনি যে এমব্রায়োলজি ডিগ্রি সম্পন্ন করেন, সে সময় বাংলাদেশে এ ধরনের পূর্ণকালীন (রেসিডেন্সিয়াল) উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের নজির ছিল না।
তিনি বলেন, এমব্রায়োলজি ইনফার্টিলিটি চিকিৎসার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শাখা। দেশে যারা বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় কাজ করেন, তারা এ বিষয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে অবগত। এর আগে বাংলাদেশে এ কাজে নিয়োজিত অধিকাংশ এমব্রায়োলজিস্ট প্রশিক্ষণভিত্তিকভাবে কাজ করতেন। ডা. খালিদুজ্জামানই প্রথম ব্যক্তি যিনি বিদেশে থেকে পূর্ণকালীনভাবে এই উচ্চতর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।
ডা. আহাদ হোসেন আরও উল্লেখ করেন, ডা. খালিদুজ্জামানের অবদান রয়েছে অ্যাপোলো হাসপাতাল (বর্তমানে এভারকেয়ার), বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি হাসপাতাল) এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রথম টেস্টটিউব বেবি কার্যক্রমে। এসব প্রতিষ্ঠানে তার পেশাগত দক্ষতা ও ভূমিকা চিকিৎসা অঙ্গনে পরিচিত।
বিএমডিসির স্বীকৃতি প্রসঙ্গে ডা. আহাদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) সাধারণত দেশীয় ডিগ্রিগুলোর স্বীকৃতি দেয়। বিদেশি ডিগ্রির স্বীকৃতি মূলত সরকারি চাকরিতে পদোন্নতি ও প্রমোশনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয়। যারা প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন, তাদের ক্ষেত্রে বিএমডিসির স্বীকৃতি অনেক সময় অপরিহার্য নয়।
তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, বহু আন্তর্জাতিক স্বীকৃত ডিগ্রি ও ফেলোশিপ রয়েছে, যেগুলোর বিএমডিসি স্বীকৃতি না থাকলেও চিকিৎসকরা দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। ডা. খালিদুজ্জামান শুরু থেকেই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকায় তার নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তার যোগ্যতা ও দক্ষতা সম্পর্কে অবগত ছিল।
ডা. আহাদ হোসেন অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিএমডিসির যে নোটিশকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং না জেনে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করা হচ্ছে। তবে এর ফলে সাধারণ মানুষ ডা. খালিদুজ্জামানের চিকিৎসা ক্ষেত্রে অবদান সম্পর্কে জানতে পেরেছে।
তিনি বলেন, “মানুষ আগে জানত তিনি ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী। এখন জানছে তিনি কোন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ, কোথা থেকে ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং দেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রে তার অবদান কী।”