প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 17, 2026 || প্রকাশের তারিখঃ Aug 26, 2026
ভোলায় সিরাতুন্নবী (সা.) সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত
ভোলা প্রতিনিধি:
মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র সীরাত, সংগ্রামমুখর কর্মজীবন ও মানবতার কল্যাণে তাঁর অনন্য অবদান নিয়ে ভোলায় ‘সিরাতুন্নবী (সা.) সিম্পোজিয়াম ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বক্তারা বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন শুধু ইতিহাসের একটি অধ্যায় নয়; বরং ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ আদর্শ।
বুধবার (২৬ আগস্ট, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি) সকাল সাড়ে ৯টায় ভোলা জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভোলা জেলা শাখার উদ্যোগে এ সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জেলা সেক্রেটারি মাওলানা হারুনুর রশিদের সঞ্চালনায় এবং জেলা আমির মুহাম্মদ জাকির হুসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য প্রফেসর শাইখ ড. মো. আব্দুস সামাদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শামসুল আলম, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়ার অধ্যাপক ও ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকার সাবেক ডিন ড. মোহাম্মদ অলিউল্লাহ, ভোলা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মো. নজরুল ইসলাম এবং বোরহানউদ্দিন কামিল মাদ্রাসার মুহাদ্দিস ও ভোলা ঈদগাহ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা হাবিবুর রহমান আল জাযীরী।
‘সীরাত মানে শুধু আলোচনা নয়, জীবনে বাস্তবায়ন’
সিম্পোজিয়ামে বক্তারা মহানবী (সা.)-এর জন্ম, শৈশব, নবুয়তপ্রাপ্তি, মক্কার নির্যাতন-নিপীড়ন, হিজরত, মদিনায় সমাজ গঠন, বিভিন্ন প্রতিকূলতার মোকাবিলা এবং ইন্তেকাল পর্যন্ত তাঁর সংগ্রামমুখর কর্মজীবনের নানা দিক তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ মানার অর্থ শুধু ব্যক্তিজীবনের কিছু আমল পালন করা নয়। তাঁর জীবনের ত্যাগ, ধৈর্য, সত্যনিষ্ঠা, ন্যায়বিচার, মানবিকতা, নেতৃত্ব, রাষ্ট্র পরিচালনা ও সমাজ সংস্কারের শিক্ষাও অনুধাবন করতে হবে। তাঁর জীবনাদর্শকে বাস্তব জীবনে ধারণ করাই সীরাতের প্রকৃত শিক্ষা।
তারা বলেন, মহানবী (সা.) আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের কল্যাণে অসীম ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাঁর দাঁত মুবারক শহীদ হয়েছে, তিনি রক্তাক্ত হয়েছেন, নির্যাতিত হয়েছেন; কিন্তু সত্য ও ন্যায়ের পথ থেকে বিচ্যুত হননি। তাই তাঁর সংগ্রামী জীবনের শিক্ষাকে বাদ দিয়ে শুধু কিছু আনুষ্ঠানিক সুন্নাহ পালনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ আদর্শ অনুসরণ সম্ভব নয়।
‘মানুষের কল্যাণে রাসূল (সা.)-এর আদর্শই পথনির্দেশ’
বক্তারা আরও বলেন, মানুষের প্রকৃত পরিবর্তন শুরু হয় তার অন্তর থেকে। হাদিসের আলোকে মানুষের অন্তর বা হৃদয় ভালো থাকলে তার কর্মও ভালো হয়, আর অন্তর কলুষিত হলে তার কর্মেও তার প্রতিফলন ঘটে। তাই অন্তরকে পরিশুদ্ধ করতে আল্লাহভীতি, তাকওয়া ও রাসূল (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের বিকল্প নেই।
তারা বলেন, মহানবী (সা.) সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরিত হয়েছেন। তিনি মানুষকে অন্যায়, জুলুম ও মানুষের দাসত্ব থেকে মুক্তির শিক্ষা দিয়েছেন এবং ন্যায়, ইনসাফ, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিক মর্যাদার ভিত্তিতে সমাজ গঠনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় গ্রহণ করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা শুধু মুখের দাবি নয়; তাঁর আদর্শকে জীবনে ধারণ করার মধ্য দিয়েই সেই ভালোবাসার সত্যতা প্রকাশ পায়। একজন মুমিনের কাছে রাসূল (সা.)-এর ভালোবাসা নিজের সন্তান-সন্ততি, পিতা-মাতা, ধন-সম্পদ ও দুনিয়ার সবকিছুর চেয়ে অধিক হওয়া উচিত।
সিম্পোজিয়ামে বক্তারা মহানবী (সা.)-এর সীরাত অধ্যয়ন, তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ এবং ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে তাঁর নৈতিক ও মানবিক আদর্শ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামী ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, আলেম-ওলামা, শিক্ষক, সাংবাদিক, পেশাজীবী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।