প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 17, 2026 || প্রকাশের তারিখঃ Oct 30, 2025
নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত ও গণদাবি বাস্তবায়নের দাবিতে জামায়াতে ইসলামী’র স্মারকলিপি
মেঘনা দর্পন ডেস্কঃ
নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা এবং যৌক্তিক গণদাবিসমূহ বাস্তবায়নের দাবিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ১১টায় সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিটি নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল মিছিলসহ নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপিটি হস্তান্তর করেন।
এর আগে রাজধানীর শেরে বাংলানগরস্থ আগারগাঁও মোড়ে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১৩ আসনের প্রার্থী মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা দক্ষিণের নায়েবে আমীর এড. ড. হেলাল উদ্দিন, দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসাইন, উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দিন মোল্লা ও ইয়াছিন আরাফাত।
সমাবেশ শেষে একটি মিছিল আগারগাঁও এলাকা প্রদক্ষিণ করে নির্বাচন কমিশনের সামনে অবস্থান নেয়। পরে ৪ সদস্যের প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, জাতির প্রত্যাশা অনুযায়ী সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশন নিরলসভাবে কাজ করছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে গণহত্যার বিচার, রাষ্ট্র সংস্কার ও স্বৈরাচার প্রতিরোধে কাজ শুরু করেছে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রণীত ৮৪টি সুপারিশের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদকে আইনগত ভিত্তি দিতে আগামী নভেম্বরের মধ্যে গণভোট আয়োজনের দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কালো টাকার ব্যবহার, ভোটকেন্দ্র দখল, পেশিশক্তির প্রদর্শন ও অনিয়ম বন্ধ করে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি ভোটের সঠিক মূল্যায়নের জন্য পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজনেরও দাবি জানানো হয়।
জামায়াতে ইসলামী মনে করে, গণভোট ছাড়া জুলাই সনদ আইনগতভাবে টেকসই হবে না। তাই নভেম্বর মাসেই গণভোট আয়োজন ও ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংগঠনটি আশা প্রকাশ করে, নির্বাচন কমিশন তাদের এই যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত দাবি গ্রহণ করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অভিযাত্রায় ভূমিকা রাখবে।