প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 17, 2026 || প্রকাশের তারিখঃ Nov 2, 2025
ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ রেখে বিএনপি মনোনয়নপ্রত্যাশীর রাজনৈতিক প্রচারণা
মেঘনা দর্পন ডেস্কঃ
ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলায় পাঠদান বন্ধ রেখে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ ও রাজনৈতিক প্রচারণা চালিয়েছেন বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী গোলাম আজম সৈকত।
রোববার (২ নভেম্বর) শৌলজালিয়া ইউনিয়নের বলতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রেখে রাজনৈতিক প্রচারের ভিডিওটি নিজেই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেন ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর–কাঠালিয়া) আসনের বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী গোলাম আজম সৈকত।
ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “বলতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা সম্পর্কে অবহিতকরণ।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক বলেন, বিদ্যালয় হচ্ছে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার স্থান, রাজনীতি শেখার নয়। রাজনীতিবিদদের এমন কর্মকাণ্ড বন্ধ করা উচিত।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহজামাল খান বলেন, “সৈকত নামের একজন ব্যক্তি জানাজা শেষে বিদ্যালয়ে আসেন। তখন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ক্লাস চলছিল। কোনো পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি ছিল না। হলরুম না থাকায় শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একত্র করে তিনি বক্তব্য দেন ও লিফলেট বিতরণ করেন।”
অভিযোগের বিষয়ে গোলাম আজম সৈকত বলেন, “আমি জানাজায় গিয়েছিলাম, ফেরার পথে বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষকদের অনুমতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে তারেক রহমানের রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা নিয়ে আলোচনা করি। এটি কোনো নির্বাচনী প্রচারণা নয়, বরং সচেতনতামূলক কর্মসূচি।”
এ বিষয়ে কাঠালিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনোয়ার আজীম বলেন, “বিদ্যালয় চলাকালে পাঠদান বন্ধ রেখে রাজনৈতিক কর্মসূচি করা অনৈতিক ও আইনবহির্ভূত। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহিরুল ইসলাম বলেন, “গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। পাঠদান বন্ধ রেখে রাজনৈতিক কার্যক্রমের কোনো সুযোগ নেই। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ঝালকাঠির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সত্যবান সেনগুপ্ত বলেন, “বিদ্যালয় শিক্ষা অর্জনের স্থান, রাজনীতি চর্চার নয়। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে।”