প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 17, 2026 || প্রকাশের তারিখঃ Nov 11, 2025
বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলেও উপেক্ষিত ফাতিহা আয়াত
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন শুরু হয়েছে ১০ নভেম্বর। এই আয়োজন ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন বাংলাদেশের তরুণ জলবায়ু কর্মী ফাতিহা আয়াত। দেশ ও জাতির জন্য কাজ করতে চাইলেও তাকে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না— এমন আক্ষেপ জানিয়েছেন তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
ফাতিহা লিখেছেন, “যোগ্যতা ও ইচ্ছা থাকলেও কেন বাংলাদেশের জন্য অনেকেই অনেক কিছু করতে পারে না, তা এখন আমার থেকে ভালো খুব অল্প লোকেই জানে। মাঝে মাঝে মনে হয়, আমি কি তবে অন্ধের দেশে আয়না বিক্রি করছি?”
তিনি জানান, নিউইয়র্কে অবস্থানকালে জাতিসংঘ আয়োজিত আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনে তিনি সাতবার বক্তৃতা দিয়েছেন। প্রতিবারই বাংলাদেশের টেকসই অভিযোজন ও জলবায়ু প্রশমন নিয়ে কথা বলেছেন। এমনকি যৌথ নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা দাবি করতে গিয়ে ভারতীয় প্রতিনিধিদের লাঞ্ছনা ও গঞ্জনারও শিকার হয়েছেন। সেই ঘটনার ভিডিও এখনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায়।
দেশে ফেরার পর থেকে এটি দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন। এই সময়ে ফাতিহা পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান-এর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন। তিনি জানান, কিয়োটো প্রটোকল, বালি এন্ডোর্সমেন্ট, কোপেনহেগেন অ্যাকর্ড, প্যারিস অ্যাগ্রিমেন্ট ও গ্লাসগো প্যাক্ট নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের জন্য গ্লোবাল ফান্ড থেকে অর্থ ছাড় করাতে চেয়েছিলেন।
ফাতিহা বলেন, “Green Climate Fund-এর প্রতিশ্রুত ১০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল থেকে বাংলাদেশের জন্য অর্থ ছাড় করানোর বিষয়ে আমি ভয়েস রেইজ করতে চেয়েছিলাম। এছাড়া জাতিসংঘের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সলিউশনস নেটওয়ার্কের কাছে নদী ভাঙন, নাব্যতা হ্রাস, মৌসুমি প্লাবন, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, ভূমি ধ্বস ও উপকূলীয় অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির লবণাক্ততা কমাতে প্রযুক্তিগত সহায়তা চাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলাম।”
কিন্তু তার এমন প্রস্তাবে কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। ফাতিহা বলেন, “আমি বহুবার হোয়াটসঅ্যাপে নক করেছি। ম্যাম শুধু রিপ্লাই দেন ‘নোটেড’। আমি ১০ মিনিটের একটা অ্যাপয়েন্টমেন্ট চেয়েছিলাম, তিনি লিখলেন ‘ইশ! যদি সেই ১০ মিনিটটা থাকত।’ এমনকি বলেছিলাম, নিজ খরচেই যাব আসব, সরকারি কোনো ফান্ডিং লাগবে না। কিন্তু তবুও আমাকে পাত্তা দেওয়া হয়নি।”
নিজ দেশের জন্য আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে কাজ করার সুযোগ না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ নিয়ে গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মে কথা বলার অনেক সুযোগ আমেরিকা থেকে পেয়েছি। ভেবেছিলাম দেশে আসার পর সেটা আরও বাড়বে। বাস্তবতা পুরোই উল্টো। আফসোস!”
ফাতিহা আয়াতের মতো তরুণ জলবায়ু কর্মীরা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিশ্বে তুলে ধরছেন। অথচ প্রশাসনিক অনাগ্রহ ও সমন্বয়ের অভাবে তাদের মতো উদ্যমী তরুণদের কাজের সুযোগ কমে যাচ্ছে। জলবায়ু সংকটে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি হিসেবে বাংলাদেশকে টিকিয়ে রাখতে হলে এই তরুণ কণ্ঠগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি— এমন মত দিয়েছেন অনেক পরিবেশবিদ।