প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 17, 2026 || প্রকাশের তারিখঃ Nov 12, 2025
ভোলায় ১২ নভেম্বরের সেই ভয়াল রাতের ক্ষত আজও শুকায়নি
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ভোলাবাসীর জীবনে ১২ নভেম্বর এক শোকের দিন। ১৯৭০ সালের এই দিনে বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ‘গোর্কি’। ভয়াল সেই রাতে শুধু ভোলাতেই প্রাণ হারান প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ। সমগ্র উপকূলজুড়ে মৃত্যু হয় প্রায় ৫ লাখ মানুষের।
সেই ঘূর্ণিঝড়ে মুহূর্তেই বিলীন হয়ে যায় অগণিত জীবন, ফসল ও গবাদি পশু। সরকারি তথ্যমতে, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ৩৮ হাজার সমুদ্রনির্ভর এবং ৭৭ হাজার অভ্যন্তরীণ মৎস্যজীবী ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাদের মধ্যে প্রায় ৪৬ হাজার মানুষ তখন মাছ ধরার সময় প্রাণ হারান। ধ্বংস হয় ২০ হাজারেরও বেশি মাছ ধরার নৌকা।
এছাড়া ১০ লাখেরও বেশি গবাদি পশুর মৃত্যু, চার লাখ ঘরবাড়ি এবং সাড়ে তিন হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ২২২ কিলোমিটার পর্যন্ত এবং জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা ছিল প্রায় ১০৬ মিটার। ভরা জোয়ারের সময় ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানায় উপকূলজুড়ে সৃষ্টি হয় মহাপ্রলয়।
ষাটোর্ধ্ব মোঃ নেছার শরীফ বলেন, চরফ্যাশন ও মনপুরায় ব্যাপক প্রানহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়। তজুমদ্দীন, বোরহানউদ্দিন, দৌলতখান, ভোলার মেঘনা পাড়ের শতকরা আশি শতাংশ মানুষ মারা যায়। আমার ভাই মরহুম অধ্যক্ষ মোঃ আবু আবদুল্লাহ মোহাম্মদ চরফ্যাশনের আনজুর হাটে থাকাকালীন বন্যার সময় নারিকেল গাছের মাথায় আশ্রয় নেয়।
১২ নভেম্বর এখনো উপকূলবাসীর কাছে শুধু একটি তারিখ নয়, বরং বেদনার প্রতীক। প্রতি বছর এই দিনে নিহতদের স্মরণে মিলাদ, দোয়া, মোনাজাত ও স্মরণসভা আয়োজন করে স্বজনহারা মানুষ।
ভোলার ইতিহাস যতদিন থাকবে, ততদিন ১২ নভেম্বরের ভয়াল রাত উপকূলবাসীর মনে গেঁথে থাকবে চিরঅম্লান হয়ে।