২০০৯ সালের বহুল আলোচিত বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় জামিন পাওয়ায় গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মোট ৩৫ জন সাবেক বিডিআর সদস্য মুক্তি পেয়েছেন।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে তারা পর্যায়ক্রমে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন। এ সময় কারাফটকের সামনে তাদের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার আদালত ৫৩ জনের জামিন মঞ্জুর করেন।
মুক্তিপ্রাপ্ত ৩৫ জন আসামির মধ্যে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার ১ জন, কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-১: ২ জন, কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২: ৩২ জন মুক্তি দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কারাগারের জেল সুপাররা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোহাম্মদ আল মামুন জানান, দুপুরে সাবেক বিডিআর সদস্য বন্দী ১ জনের জামিনের কাগজপত্র পৌঁছালে যাচাই-বাছাই শেষে তাকে সন্ধ্যায় মুক্তি দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-১ এর সিনিয়র জেল সুপার আবু নূর মো: রেজা জানান, এ কারাগার থেকে ২ জনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। একই তথ্য নিশ্চিত করে কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২ এর সিনিয়র জেল সুপার মো: আল মামুন বলেন, ৩২ জনের জামিনের কাগজপত্র দুপুরে পৌঁছানোর পর সন্ধ্যায় তাদেরকে মুক্তি দেওয়া হয়।
২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দফতরে মর্মান্তিক বিদ্রোহের ঘটনা ঘটে। এই বিদ্রোহে বিডিআর-এর তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা শাহাদাৎবরণ করেন। সব মিলিয়ে ৭৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পরের দিন ও ২৮ ফেব্রুয়ারি হত্যা এবং বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি পৃথক মামলা করা হয়। হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ৮৫০ জনকে আসামি করা হয়, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মামলা হিসেবে পরিচিত।
২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর বিচারিক আদালত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি খালাস পান ২৭৮ জন।