মোঃ নোমান,
তজুমদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলাসহ উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক ঘূর্ণিঝড় ও দমকা হাওয়ায় শতাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে ২০২৬) হঠাৎ শুরু হওয়া এই দুর্যোগে বহু বসতঘর বিধ্বস্ত হয়েছে, উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হঠাৎ শুরু হওয়া প্রবল বাতাস ও ঘূর্ণিঝড়ে মুহূর্তেই পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে নদী তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে। অনেক ঘরের টিন উড়ে গেছে, আবার কিছু পরিবারের বসতঘর সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় তারা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অভিযোগ, ঘরে থাকা খাদ্যসামগ্রী, পোশাক ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও ঝড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক পরিবার এখনো শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও নিরাপদ আশ্রয়ের সংকটে রয়েছে। শিশু ও বৃদ্ধদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ঝড়ের কারণে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাও আংশিক ব্যাহত হয়েছে। সড়কের ওপর গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে থাকায় সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। কৃষকরাও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা কামনা করেছেন, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে।
স্থানীয়রা আরও জানান, উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রায়ই আঘাত হানে। তাই টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, দুর্যোগ সহনশীল ঘরবাড়ি তৈরি এবং পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।