বোরহানউদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি
আল্লাহর কালাম কুরআনুল কারিমের হিফজ ও প্রচারে নিবেদিত সংগঠন ফি সাবিলিল্লাহ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ আয়োজিত জেলা ভিত্তিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতার ফাইনাল পর্ব ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে খায়েরহাটের মাদীনাতুল উলুম কুয়েত মাদরাসা প্রাঙ্গণে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মাওলানা ইব্রাহিম খলিল। প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন হাফেজ মাওলানা মিজানুর রহমান আজাদী এবং প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুফতি ইমাম মোঃ রেযাউল কারীম বুরহানী, সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী (ভোলা-০২), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
অনুষ্ঠানে এলাকার আলেম-উলামা, শিক্ষক, হাফেজে কুরআন, অভিভাবক ও সাধারণ মুসল্লিগণ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, “যারা আল্লাহর কিতাব মুখস্থ করছে, তারা আসলে আল্লাহর সেই প্রতিশ্রুত সংরক্ষণের অংশীদার, যা তিনি নিজেই ঘোষণা করেছেন— ‘ইন্না নাহনু নায্জালনাযিকরা ওয়া ইন্না লাহু লাহাফিজুন।’” তারা আরও বলেন, “কুরআনের হাফেজ হওয়া শুধু দুনিয়ার সম্মান নয়; এটি আখিরাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা অর্জনের পথ। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে ও মুখস্থ রাখে, তাকে জান্নাতে বলা হবে— পাঠ করো ও উঠতে থাকো।’”
জেলার বিভিন্ন মাদরাসা থেকে মোট ২৫টি প্রতিষ্ঠান এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ১৫ জন শিক্ষার্থীকে ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়। প্রথম স্থান অর্জন করেন আব্দুল্লাহ আল আরাফাত (ইকরা মাদ্রাসা), যিনি নগদ ৫,০০০ টাকা, ক্রেস্ট ও সনদ পান। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন আনাস (আলিনগর আজিজিয়া মাদ্রাসা), যিনি পান ৩,০০০ টাকা, ক্রেস্ট ও সনদ। তৃতীয় স্থান অর্জন করেন আব্দুল্লাহ আল মামুন (রহিমিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা), যিনি পান ২,০০০ টাকা, ক্রেস্ট ও সনদ। অন্যান্য বিজয়ীদেরও উৎসাহমূলক পুরস্কার ও সনদ প্রদান করা হয়।
ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্য দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশু-কিশোরদের কুরআনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা, তাদের হৃদয়ে দ্বীনি চেতনা ও ঈমানি প্রেরণা সৃষ্টি করা। আয়োজকরা বলেন, “আমরা চাই, প্রতিটি গ্রামে অন্তত একজন হাফেজে কুরআন তৈরি হোক; আমাদের সমাজে কুরআনের আলো ছড়িয়ে পড়ুক, যাতে তরুণ প্রজন্ম মাদক, ভোগবাদ ও অনৈতিকতার অন্ধকার থেকে মুক্তি পায়।”
ফি সাবিলিল্লাহ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ দারিদ্র্যপীড়িত এলাকায় হিফজুল কুরআন মাদরাসা সহায়তা, এতিম শিশুদের শিক্ষা, রোহিঙ্গা ও দুর্যোগ–আক্রান্ত এলাকায় মানবিক সহায়তাসহ বিভিন্ন খাতে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে (ফি সাবিলিল্লাহ) কাজ করে যাচ্ছে।