নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২৮ অক্টোবর দিনটি চিরকাল এক ভয়াল ও রক্তাক্ত অধ্যায় হয়ে থাকবে। ২০০৬ সালের এই দিনে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম এলাকায় প্রকাশ্যে লগি–বৈঠা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালানো হয় জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী ১৪ দলের কর্মীরা ওইদিন লগি, বৈঠা ও লাঠিসোটা নিয়ে মিছিল থেকে বের হয়ে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। বীভৎস এই ঘটনায় ছয়জন নেতাকর্মী নিহত হন এবং অনেকে গুরুতর আহত হন।
২০০৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর পল্টন ময়দানের এক মহাসমাবেশে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা তার কর্মীদের লগি-বৈঠা নিয়ে ঢাকা অবরোধের আহ্বান জানান। সেই আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতেই ২৭ অক্টোবর বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণের পর ঢাকা ও সারাদেশে শুরু হয় সহিংসতা। এরই চূড়ান্ত রূপ নেয় পরদিন ২৮ অক্টোবরের ঘটনাটি।
দিনদুপুরে শত শত মানুষের সামনে লগি-বৈঠা, লাঠি, পিস্তল ও বোমা নিয়ে হামলার দৃশ্য গণমাধ্যমে ধরা পড়ে। নিহতদের মধ্যে শিবির নেতা হাফেজ গোলাম কিবরিয়া শিপন, মাসুম, মুজাহিদ, জসিমসহ আরও অনেকে ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যে, আহতদের নির্মমভাবে পেটানো হয়, কেউ কেউ ঘটনাস্থলেই মারা যান।
এ ঘটনাকে অনেক বিশ্লেষক ও মানবাধিকার সংগঠন ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহিংসতার এক ভয়াবহ দৃষ্টান্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব কফি আনানসহ বিশ্ব নেতৃবৃন্দ ঘটনাটির নিন্দা জানান। দেশের রাজনৈতিক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী মহল থেকেও বিচার দাবি ওঠে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২৮ অক্টোবরের হত্যাযজ্ঞ বাংলাদেশের রাজনীতিতে সহিংসতার এক বিভীষিকাময় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। এ ঘটনার পর দেশজুড়ে আতঙ্ক, ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বয়ে যায়।
আজও সেই ভয়াল দিনটির স্মৃতি বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক গভীর ক্ষত হয়ে আছে।