নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ভোলার চরফ্যাশনে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দুই দলের পক্ষ থেকেই দাবি করা হয়েছে। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে চরফ্যাশন উপজেলার জিন্নাগড় ইউনিয়নের চকবাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
স্থানীয় জামায়াত নেতাদের দাবি, সকাল ৮টার দিকে দাঁড়িপাল্লা মার্কার গণসংযোগ শেষে জামায়াত কর্মী ও গ্রাম্য ডাক্তার জামাল চকবাজারে নিজের ফার্মেসিতে বসলে স্থানীয় তিনজন বিএনপি কর্মী সেখানে এসে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ভবিষ্যতে জামায়াতে ইসলামের পক্ষে কোনো গণসংযোগে অংশ না নিতে হুমকি দেন। কারণ জানতে চাইলে জামালকে মারধর করা হয়। এতে তিনি বুক ও পিঠে গুরুতর আঘাত পান।
আহত জামালকে অ্যাম্বুলেন্সে করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করলে বিএনপি নেতাকর্মীরা তাকে নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখেন বলে অভিযোগ করেন জামায়াত নেতারা। পরে পুলিশ ও জামায়াতে ইসলামী নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে চকবাজার এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সসহ জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর পুনরায় হামলা চালানো হয়।
এদিকে আহতদের নিয়ে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছানোর পর হাসপাতাল প্রাঙ্গণেও উভয় পক্ষের মধ্যে ফের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হস্তক্ষেপ করে।
ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মোস্তফা কামাল বলেন, “এই পৈশাচিক হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। নির্বাচন ও গণসংযোগে বাধা প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”
চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা বলেন, “এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ভোলা দক্ষিণ জেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা আব্বাসউদ্দীন বলেন, “হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে প্রশাসনের সামনেই দফায় দফায় হামলা ন্যাক্কারজনক। হামলার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
তবে বিএনপির স্থানীয় নেতারা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জামায়াত কর্মীরা গণসংযোগের সময় তাদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে এবং জামায়াতের হামলায় বিএনপির অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও আশপাশের এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নৌবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।