নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ফাঁসির দণ্ডাদেশ দিয়েছে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল। রায় ঘোষণার সময় আদালত বলেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার ও পরিকল্পিত নিপীড়নের দায় প্রমাণিত হওয়ায় দণ্ড এড়ানোর সুযোগ নেই।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে মোট ৫৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। পাশাপাশি শেখ হাসিনার কথোপকথনের অডিও–ভিডিও, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং জব্দ করা গুলি প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ১২ অক্টোবর যুক্তিতর্ক শুরু হয়ে ২৩ অক্টোবর শেষ হয়।
চূড়ান্ত যুক্তিতর্কে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম এবং অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান শেখ হাসিনা ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ দণ্ড দাবি করেন।
এদিকে রায় ঘোষণার সময় শেখ হাসিনা দেশে না থাকায় তাকে গ্রেপ্তার ও ফেরত আনার বিষয়ে ইন্টারপোলের সহযোগিতা চাওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছে ট্রাইব্যুনাল সূত্র। বর্তমানে তিনি ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রায়ের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই এটিকে ‘রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ বলে মনে করছেন, অন্যদিকে তার সমর্থকরা রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
ইন্টারপোলের হস্তক্ষেপ এবং ভারত সরকারের অবস্থান এখন নির্ধারণ করবে শেখ হাসিনার পরবর্তী পরিণতি।