মেঘনা দর্পন ডেস্কঃ
বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে গিয়ে ১৬ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন ভোলার লালমোহন উপজেলার ১৩ জেলে। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তাদের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন স্বজনরা। নিখোঁজদের বেশিরভাগই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় ১৩টি পরিবার এখন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
নিখোঁজ জেলেদের বাড়ি লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দলিল মাস্টার বাজার এলাকা ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাতিরখাল এলাকায়। নিখোঁজরা হলেন—খোকন মাঝি, সাব্বির, হেলাল, মাকসুদুর রহমান, শামিম, সাজিব, নাছির, জাহাঙ্গীর, মাকসুদ, ফারুক, আব্দুল মালেক, আলম ও ফারুক মাঝি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১০ নভেম্বর দুপুরে ট্রলারের মালিক ফারুক মাঝির নেতৃত্বে ১৩ জেলে চরফ্যাশনের সামরাজ ঘাট থেকে এক সপ্তাহের বাজার নিয়ে গভীর সাগরে মাছ শিকারে রওনা হন। এক সপ্তাহ পর ঘাটে ফেরার কথা থাকলেও ১৬ দিন পার হলেও তারা ফেরেননি। ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ থাকায় যোগাযোগহীন অবস্থায় রয়েছেন তারা।
নিখোঁজ জেলেদের ফিরে পেতে মঙ্গলবার সকালে এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধের ফলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), পুলিশ ও নৌবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযানের আশ্বাস দিলে স্থানীয়রা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
স্বজনদের ধারণা, ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে তারা গভীর সাগরে ভেসে থাকতে পারেন। আবার দিক হারিয়ে অন্য কোনো দেশের জলসীমায় ঢুকে পড়ায় সে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তারা।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহ আজিজ বলেন, “নিখোঁজ জেলেদের খোঁজে কোস্টগার্ড কাজ করছে। পরিবারগুলোর সঙ্গেও আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। দ্রুত উদ্ধারের জন্য সব ধরনের চেষ্টা চলছে।”
নিখোঁজ ১৩ জেলেকে জীবিত ফিরে পেতে এখন প্রহর গুনছেন শোকাহত পরিবারগুলো।
সূত্রঃ বাংলা এডিশন