মহিব্বুল্যাহ ইলিয়াছ
মনপুরা (ভোলা) প্রতিনিধি
ভোলার দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় শহীদ মীর মোহাম্মদ ওজায়েরের পরিবারের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ, স্মরণসভা এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। আজ মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) সকালে তিনি শহীদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন, তাদের সঙ্গে সময় কাটান এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দেন।
২০২৩ সালের ৮ জুলাই ঢাকা মহানগর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ঈদুল ফিতরের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান শেষে বাসায় ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন মনপুরার প্রথম শহীদ মীর মোহাম্মদ ওজায়ের। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। কয়েক ঘণ্টার চিকিৎসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তার অকাল মৃত্যুতে মনপুরা, তিতুমীর কলেজ এবং সংগঠনজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।
শিবির সভাপতির স্মৃতিচারণ—“ওজায়ের ছিলেন আদর্শবান তরুণ”
মীর ওজায়েরের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে শিবির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন—“ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান থেকে আমরা একসাথে বের হয়েছিলাম। সেদিন যে ওজায়ের ভাইকে হারাতে হবে, ভাবতেই পারিনি। তিনি সংগঠনের একজন নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। মনপুরার মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছা সবসময়ই তার ভেতরে জ্বলত। দায়িত্ববোধ, সাহস ও সততা—সব মিলিয়ে তিনি ছিলেন তরুণদের রোল মডেল।”
তিনি আরও বলেন,
“ওজায়ের ভাইয়ের মৃত্যু আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তার মতো মানসিকতা ও কর্মস্পৃহা আজকের তরুণদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা।”
মীর ওজায়েরের মায়ের সাথে সাক্ষাৎ করে তিনি পরিবারের প্রতি সংগঠনের সমবেদনা জানান। দীর্ঘসময় ধরে পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের মানসিক শক্তি জোগান।
পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দিতে গিয়ে তিনি বলেন, শহীদ পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে আমরা সবসময় পাশে থাকব। ওজায়ের ভাইয়ের ত্যাগ আমাদের কাছে গর্বের। স্থানীয়রা জানান, কেন্দ্রীয় নেতার এই আগমন ও সহায়তা তাদের হৃদয়ে বিশেষভাবে জায়গা করে নিয়েছে।
মনপুরায় অধ্যয়নকালে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের মনপুরা উপজেলা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে সরকারি তিতুমীর কলেজে ভর্তি হয়ে প্রথম বর্ষেই কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক হন।
শুধু সংগঠন নয়, তিনি ছিলেন একজন সমাজসেবকও। এলাকায় অসহায় মানুষের সাহায্যে ছিলেন এগিয়ে আসতেন। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় নিজ উদ্যোগে কাজ করতেন। মনপুরার উন্নয়ন ও তরুণদের এগিয়ে নিতে সবসময় উৎসাহী ছিলেন। ঢাকায় ব্যস্ত শিক্ষাজীবনের মাঝেও বাড়িতে এসে সমাজসেবায় যুক্ত হতেন।
তার বন্ধু, সহযোদ্ধা ও শিক্ষকরা তাকে বর্ণনা করেন “নম্র, পরিশ্রমী, দায়িত্বশীল এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসায় ভরপুর এক মানুষ” হিসেবে।
ওজায়েরের মৃত্যুর প্রায় দুই বছর পরও মনপুরার মানুষ তাকে ভুলে যায়নি। এলাকার মানুষ, তার সহপাঠী ও সংগঠনের কর্মীরা আজও তাকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করেন।
শিবির সভাপতির এই সফরের মাধ্যমে শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোয় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা সৃষ্টি হয়েছে।
তার আদর্শ, ত্যাগ ও কর্মময় জীবন আজও মনপুরার তরুণদের অনুপ্রেরণা হয়ে আছে।