ঢাবি প্রতিনিধি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘বহিরাগত–ভবঘুরে উচ্ছেদ’ অভিযান। এই উদ্যোগ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও, ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে অধিকাংশ শিক্ষার্থী এটিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন।
বুধবার (৫ নভেম্বর) ডাকসুর আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জসীমউদ্দিন খান তার ফেসবুক গ্রুপে শিক্ষার্থীদের মতামত জানতে একটি পোল দেন। সেখানে ৯১ শতাংশ শিক্ষার্থী উচ্ছেদ অভিযানকে সমর্থন করেন, ৫ শতাংশ কিছুটা সমর্থন জানান এবং মাত্র ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী এ উদ্যোগের বিরোধিতা করেন।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। শামসুন্নাহার হলের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “আমি ডাকসুর এই উদ্যোগকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে দেখি। ক্যাম্পাসে মেয়েরা প্রায়ই হয়রানির শিকার হয়। আমাদের হলের সামনে প্রায়ই পাগল, ভবঘুরে ও মাদকাসক্তদের শুয়ে থাকতে দেখা যায়। ডাকসুর অভিযানের পর থেকে তা কিছুটা কমেছে।”
শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী রামিসা রহমান বলেন, “এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় একটি উদ্যোগ। তবে এর সাফল্য নির্ভর করবে কতটা কার্যকরভাবে এটি বাস্তবায়ন করা হয় তার ওপর। হয়রানি সম্পূর্ণ বন্ধ হবে না হয়তো, কিন্তু সচেতনতা বাড়বে।”
অন্যদিকে সূর্যসেন হলের শিক্ষার্থী সাব্বির আহমেদ সোহান বলেন, “শুধু লাঠি হাতে অভিযানে নেমে ভবঘুরে উচ্ছেদ করা সমাধান নয়। এটি মূলত পপুলিস্ট রাজনীতির অংশ। দীর্ঘমেয়াদে ‘কাঠামোগত সমাধান’ খোঁজা উচিত যাতে এ সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান হয়।”
সবমিলিয়ে, অধিকাংশ শিক্ষার্থী যেখানে ডাকসুর উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন, সেখানে কিছু শিক্ষার্থী টেকসই ও মানবিক সমাধানের দাবি তুলেছেন।