বোরহানউদ্দিন (ভোলা) সংবাদদাতা
ভোলার বোরহানউদ্দিনে গংগাপুর ইউনিয়নে ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে গরু চুরির ঘটনা। একের পর এক চুরিতে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন সাধারণ কৃষক ও খামারিরা। বিশেষ করে তেঁতুলিয়া নদী সংলগ্ন এলাকাগুলো এখন গরু চোরচক্রের নিরাপদ রুটে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (১৮ মে ২০২৬) গভীর রাতে গংগাপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের অসহায় কৃষক মোঃ জাফর সিকদার, পিতা: নুর মোহাম্মদ সিকদার এর গোয়ালঘর থেকে ৩টি গরু চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। চুরি হওয়া গরুর আনুমানিক মূল্য ২ লক্ষ টাকা বলে জানিয়েছে পরিবার।
ভুক্তভোগী জাফর সিকদার জানান, অনেক কষ্ট করে সংসারের আশা-ভরসা হিসেবে গরুগুলো লালন-পালন করেছিলেন তিনি। কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে গরু বিক্রি করে পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করার পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু রাতের আঁধারে সংঘবদ্ধ চোরচক্র তার সব স্বপ্ন মুহূর্তেই শেষ করে দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেও গংগাপুর ও আশপাশের এলাকায় একাধিক গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চোরচক্র ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। এলাকাবাসীর ধারণা, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে এসব চুরি চালিয়ে যাচ্ছে এবং স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তিও তাদের সহযোগিতা করছে।
এলাকাবাসী আরও জানান, চোরেরা অনেক সময় তেঁতুলিয়া নদী নদীপথ ব্যবহার করে দ্রুত গরু পাচার করে নিয়ে যায়। তাই নদীপথে টহল বৃদ্ধি, রাত্রীকালীন নিরাপত্তা জোরদার এবং সন্দেহভাজনদের নজরদারির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী মোঃ জামাল বলেন, শুধু গরু চোরদের নয়। তাদের আশ্রয়দাতা ও সহযোগীদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় ঈদকে সামনে রেখে সাধারণ কৃষক ও খামারিদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। দ্রুত তদন্ত করে চুরি হওয়া গরু উদ্ধার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।