মনপুরা (ভোলা) প্রতিনিধি:
ভোলার মনপুরা উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের চরফৈজুদ্দিন গ্রামের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে অর্ধশতাধিক বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কাজল, জাফর, আক্তার ও নুরজাহানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নূর মোহাম্মদ। ঘটনার পর থেকে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে দাবি করেছে।
ভুক্তভোগী নূর মোহাম্মদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশীদের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে এবং বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। তিনি বলেন, “১৮ জুলাই আমি ব্যক্তিগত কাজে বরিশালে অবস্থান করছিলাম। পরে খবর পাই, আমার অনুপস্থিতির সুযোগে কাজল, জাফর, আক্তার ও নুরজাহানসহ কয়েকজন আমার বাড়ির পূর্ব পাশে লাগানো বহু গাছ কেটে ফেলেছে।”
আমার স্ত্রী তাদের বাঁধা সেখানে গেলে তাকে হত্যার হুমকি দেয়।
নূর মোহাম্মদের স্ত্রী ফাতেমা বেগম বলেন, “১৮ জুলাই সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে কাজলের নেতৃত্বে রুবেল, আক্তার, নুরজাহানসহ কয়েকজন আমাদের বাড়ির পূর্ব পাশে এসে ৩০ থেকে ৪০টি গাছ কেটে ফেলে। কিছু গাছ ঘটনাস্থলে ফেলে রাখে এবং কিছু গাছ নিয়ে যায়। পরে তারা গাছ লাগানো জায়গাটি কেটে পাশের চাষের জমির সঙ্গে একীভূত করে দেয়।”
প্রত্যক্ষদর্শী জেসমিন বলেন, “ফাতেমা বেগমের চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি কাজল, রুবেল, আক্তারসহ কয়েকজন নূর মোহাম্মদের গাছ কেটে ফেলেছে। এছাড়া গাছ লাগানোর স্থানও কেটে পাশের জমির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি তাদের কয়েকটি গাছ নিয়ে যেতেও দেখেছি।”
স্থানীয় মসজিদ কমিটির সভাপতি মফিজ মাস্টার বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি নূর মোহাম্মদের বাড়ির পূর্ব পাশের ৩০ থেকে ৪০টি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। জমিটি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।
এ ঘটনায় নূর মোহাম্মদ ২৩ জুলাই মনপুরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের সাথে একাধিক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম জানান, এব্যাপারে থানায় একটি সাধারণ ডাইরি করা হয়েছে।