.
আবু আব্দুল্লাহ ওয়াফি
প্রকাশ : Oct 30, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

শিশু পরিচর্যা হবে অর্থনৈতিক কৌশলের অংশ-বিএনপি

মেঘনা দর্পন ডেস্কঃ
যখন কোনো তরুণী মা শিশু পরিচর্যার সুযোগ না পেয়ে চাকরি ছেড়ে দেন, অথবা কোনো ছাত্রী পড়াশোনা বন্ধ করে দেন, তখন ক্ষতি শুধু ব্যক্তিগত নয়—ক্ষতি হয় পুরো জাতির। হারায় সম্ভাবনা, উৎপাদনশীলতা ও অগ্রগতি।

এই বাস্তবতা তুলে ধরে বিএনপি বলেছে, তাদের লক্ষ্য একটি আধুনিক ও গণমুখী বাংলাদেশ গড়া—যেখানে কোনো নারীকে পরিবার ও ভবিষ্যতের মধ্যে একটিকে বেছে নিতে না হয়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৪ সালের শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, দেশের মোট পুরুষ শ্রমশক্তির অংশগ্রহণের হার ৮০ শতাংশ হলেও নারীদের ক্ষেত্রে তা মাত্র ৪৩ শতাংশ। বিএনপির মতে, এই ব্যবধান দেখাচ্ছে যে বাংলাদেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীর মেধা ও দক্ষতাকে এখনো যথাযথভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে দলটি সারাদেশে শিশু পরিচর্যা ব্যবস্থাকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কৌশলের অংশ করার উদ্যোগ বিবেচনা করছে।
দলের প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় রয়েছে—
সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন, সরকারি অফিসগুলোতে ধাপে ধাপে ডে-কেয়ার সেন্টার গঠনের জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ, বড় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও কারখানায় বাধ্যতামূলক ডে-কেয়ার ব্যবস্থা, শিশু পরিচর্যার ব্যবস্থা রাখা নিয়োগকর্তাদের জন্য কর সুবিধা ও সিএসআর (CSR) ক্রেডিট প্রদান; এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মান অনুযায়ী কেয়ারগিভারদের প্রশিক্ষণ ও সার্টিফিকেশন প্রদান।
বিএনপির ধারণা, এই সংস্কার কার্যকর হলে নারীদের কর্মসংস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে, পারিবারিক আয় বৃদ্ধি পাবে, মধ্যবিত্ত শ্রেণির আর্থিক স্থিতিশীলতা আসবে এবং দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রায় ১ শতাংশ পর্যন্ত যোগ হতে পারে।

দলটির বক্তব্যে আরও বলা হয়েছে, তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের দুই-তৃতীয়াংশ নারী হওয়ায় কর্মজীবী মায়েদের অবদান উপেক্ষা করা যায় না। আন্তর্জাতিক সংস্থা আইএফসি (IFC) ও আইএলও (ILO)-এর গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব কারখানায় শিশু পরিচর্যার সুবিধা রয়েছে, সেখানে কর্মী ধরে রাখার হার বেশি, অনুপস্থিতি কম, এবং এক বছরের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যয়ের সমপরিমাণ লাভ পায়।

বিএনপি মনে করে, শিশু পরিচর্যা কোনো দয়া নয়, বরং এটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর একটি অপরিহার্য অংশ। দলের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “যেমন সড়ক বাজারকে সংযুক্ত করে, তেমনি ডে-কেয়ার সেন্টার নারীদের কর্মজীবনের সঙ্গে সাফল্যের সংযোগ স্থাপন করে।”

দলটির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ট্রিলিয়ন-ডলারের অর্থনীতি গঠন করা, যেখানে প্রতিটি নাগরিক—বিশেষ করে নারী—গর্বের সঙ্গে দেশের অগ্রযাত্রায় অংশ নেবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ওসমান হাদীর উপর হামলার ঘটনায় জবি শিবিরের বিক্ষোভ

1

বাড়ির দোতলায়ও পানি, ভাই–বোনের খোঁজ পাচ্ছেন না গায়িকা পুতুল

2

শরীয়তপুর সাংবাদিক সমিতির সভাপতি পলাশ, সম্পাদক মামুন

3

প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন নীতিমালা পুনর্মূল্যায়নে ১৭ সদস্যের কমিট

4

নির্বাচনে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে অংশ নেবে এনসিপি

5

তজুমদ্দিনে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত

6

বোরহানউদ্দিনে কোরআন হাফেজদের তেলাওয়াত ও মিলাদ মাহফিলে খালেদা

7

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত শহিদুলের ম

8

বগুড়ায় লেদ ওয়েল্ডিং শ্রমিক ইউনিয়নের ফুটবল টুর্নামেন্টে মামা

9

চরফ্যাশনে অসহায় পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে সেলাই মেশিন, ছাগল

10

টিএসসিতে ককটেল বিস্ফোরণ, উত্তাল ঢাবি

11

ওসমান হাদির সুস্থতা কামনায় ঢাবিতে দোয়া মাহফিল

12

হাসপাতালে ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোঃ তাহেরকে দেখতে গেলেন বিএনপি

13

ভোলার তজুমদ্দিনে নারী ও পুরুষকে জুতার মালা পরিয়ে হেনস্তা: গ্

14

বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় দুই হাত অচল মিরাজের জীবনের আলো জ্বালাল উ

15

মিরসরাইয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে ছুরিকাঘাতে ছাত্রদল কর্

16

খুনি হাসিনার দোসরদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান ছাত্রশিব

17

মেরা পিক জয় করলেন চবির সাবেক শিক্ষার্থী রায়হান

18

ভোলা–২: যেখানে প্রার্থী ঠিক হয়, কিন্তু মন ভাঙে মানুষের

19

শেখ হাসিনা–রেহানাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে দুদক মামলার রায় ১ ডিসেম

20