নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
দেশের অনেক ব্যাংক এখনো ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনে আগ্রহ দেখাচ্ছে না; তারা শুধুমাত্র মুনাফা রক্ষাতেই ব্যস্ত বলে মন্তব্য করেছেন ফিনটেক বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, টেকসই ব্যাংকিংয়ের মূল চাবিকাঠি হলো আর্থিক অন্তর্ভুক্তি (ফিনান্সিয়াল ইনক্লুশন) ও ক্ষুদ্র গ্রাহকদের সেবায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি।
সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘Economic Reform Summit 2025’-এর “Cashless Economy & Financial Inclusion” শীর্ষক সেশনে এসব কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জয়তুন বিজনেস সলিউশনস-এর চেয়ারম্যান এমডি আরফান আলী। আলোচনায় আরও অংশ নেন ট্যালিখাতার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্টের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদ।
এমডি আরফান আলী বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংক যখন ব্যাংকগুলোর এমডিদের সঙ্গে বৈঠকে ডিজিটালাইজেশনের ওপর গুরুত্বারোপ করতো, তখন কিছু ব্যাংকের এমডি বোর্ডের অগ্রাহ্যের অজুহাত দিতেন। অথচ সেই ব্যাংকগুলোই আজ সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে। এসব ব্যাংক থেকে দুই থেকে আড়াই লাখ কোটি টাকা অনিয়মের মাধ্যমে বেরিয়ে গেছে।”
তিনি আরও বলেন, “অনেক ব্যাংকের বোর্ড এখনো মনে করে তাদের দায়িত্ব শুধু চাকরি বা মুনাফা বজায় রাখা। অথচ অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাংকিং ছাড়া টেকসই প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয়।”
আরফান আলী অভিযোগ করে বলেন, “বেশ কিছু প্রাইভেট কমার্শিয়াল ব্যাংক ২০ হাজার টাকার নিচে ব্যালেন্সধারী গ্রাহককে সেবা দিতে চায় না, এমনকি ১০ হাজার টাকার নিচে ব্যালেন্স থাকলে চেকবইও দেয় না। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ৫ হাজার টাকার নিচে ব্যালেন্সের ক্ষেত্রে কোনো সার্ভিস চার্জ নেওয়া যাবে না।”
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, “যে ব্যাংকগুলো বছরে হাজার কোটি টাকার মুনাফা ঘোষণা করে, তারা কি তাদের মুনাফার সামান্য অংশ ইনক্লুশন বা নিম্নআয়ভুক্ত জনগোষ্ঠীর সেবায় ব্যয় করতে পারে না?”
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান তুলে ধরে আরফান আলী জানান, দেশে বর্তমানে প্রায় ১৩ কোটি ৩৪ লাখ সেভিংস অ্যাকাউন্ট রয়েছে এবং প্রায় ১২ কোটি মানুষ ব্যাংকিং সেবার আওতায় এসেছে। তবে এসব অ্যাকাউন্টের বড় একটি অংশ নিষ্ক্রিয়। অনেকেই জানেন না যে তাদের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা আছে।
তিনি বলেন, “অনেক সময় ১০ টাকার অ্যাকাউন্ট খোলা হলেও তা পরবর্তীতে আর ব্যবহার হয়নি। তাই শুধু সংখ্যায় নয়, বাস্তবে সক্রিয় ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা বলেন, ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) এবং পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (PSP) একসাথে কাজ করলেই দেশে সত্যিকারের ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
সূত্রঃ টিবিএস