আবু বকর আবির,
জবি প্রতিনিধি
সাম্প্রতিক সময়ে ভূমিকম্প আতঙ্ক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয় আমলে এনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ১৪ দিনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করে। ফলত জকসু নির্বাচন পূর্ববর্তী বেশ কিছু ধারাবাহিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
প্রসঙ্গত বিগত ২৬ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানায় যে চলমান উদৃত পরিস্থিতির কারণে ২৭ তারিখে নির্বাচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ "ডোপটেস্ট" স্থগিত করা হলো।
এতে করে বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ শিক্ষার্থী এবং ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে সঠিক সময় নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ এবং আশঙ্কা তৈরি হয়েছে৷ এমনকি নির্বাচন কমিশনের অনেকেও সঠিক সময় নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা করছেন।
নির্বাচন পেছানোর গুঞ্জন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থী এবং ছাত্র সংগঠন গুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে প্রশাসন।
নির্বাচন পেছানোর বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান বলেন ‘নির্বাচন পেছানোর এখনো অফিসিয়াল কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। যে তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে, সেটা ছাড়া বিকল্প তারিখ নেই। তবে চলমান ছুটি নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে। কিন্তু অভিযোগ জানানো, আপিল করাসহ অন্যান্য কাজ চলমান আছে। তবুও বিশ্ববিদ্যালয় খোলা না থাকলে নির্বাচনী কার্যক্রম চালানো কঠিন। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় খোলা না থাকলে তো নির্বাচনই হবে না।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনকে বলেছি যেহেতু সময় আছে, একটু সার্বিক পরিস্থিতি অবজারভেশনে রাখতে। যদি ২২ তারিখে নির্বাচন করার সুযোগ থাকে, তাহলে ২২ তারিখেই যেন নির্বাচন আয়োজন করা হয়। আর যদি ওই দিনে নির্বাচন করা না যায়, তাহলে এমন একটি নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করতে যেন তা আবার পরিবর্তন না করতে হয়।’
নির্বাচন পেছানোর খবরে ছাত্রশিবির সমর্থিত "অদম্য জবিয়ান ঐক্য" এর জিএস প্রার্থী আরিফ বলেন:
"জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন (জকসু) কোনো গোষ্ঠীর খেয়াল-খুশির বিষয় নয়, এটা জবিয়ানদের গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্ন। এই নির্বাচনের সঙ্গে আমাদের আত্মমর্যাদা জড়িত।
নির্বাচন পেছানোর অপচেষ্টা মানে শিক্ষার্থীদের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া। শহীদ সাজিদের আত্মত্যাগের সঙ্গে বেইমানি করা। ছাত্রসমাজ ঐক্যবদ্ধ, কোনো অপশক্তির কাছে মাথা নত করবে না, ইনশাআল্লাহ।
এদিকে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের জি এস প্রার্থী খাদিজাতুল কুবরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেন "বিশাল ব্যাখ্যা / ছন্দ দিয়ে বলার কিছু নাই!কথা একটাই, ২২ তারিখ নির্বাচন চাই"
কার্যনির্বাহী সদস্য প্রার্থী ফাতেমা আক্তার বলেন "এ যাত্রায় যে বাধা হয়ে দাঁড়াবে তার পদচিহ্ন মুছে দিতে আমরা দুবার ভাববো না। জকসু হতেই হবে "
সব মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সকল ছাত্র সংগঠন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরাই নির্ধারিত সময় নির্বাচন চান৷ একই সাথে তাৎক্ষণিক প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২২ তারিখে নির্বাচনের ব্যাপারে অবস্থান ও জানতে চান শিক্ষার্থীরা। এবং অনেকেই ৩০ তারিখের মধ্যে ক্যাম্পাস খুলে দেয়ার দাবি জানান!