নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপিডি)’র সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, আওয়ামী লীগ আমলে এমন এক পরিস্থিতি বিরাজ করছিল যে, শিবির সন্দেহে কাউকে হত্যা করা হলেও বিচার তো দূরের কথা, সে বিষয়ে কথা বলারও সুযোগ ছিল না।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) রাতে কাউনিয়া উপজেলার ভায়ারহাট পিয়ারিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা মাঠে টেপামধুপুর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড এনসিপি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ভায়ারহাট পিয়ারিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষক সানাউল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজারহাট বটতলা মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহমান, ভায়ারহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক প্রফুল্ল চন্দ্র বর্ম ও শিক্ষক আয়ুব আলী প্রমুখ।
আখতার হোসেন বলেন, “আওয়ামী লীগ আমলে আন্দোলন করার কারণে ছাত্রলীগের চারজন আমাকে চ্যাংদোলা করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিয়েছিল। আড়াই মাস বন্ধুবান্ধবদের বাসায়-মেসে থাকতে হয়েছে। ঢাকা কলেজের হোস্টেলে উঠলে সেখানেও হামলার পরিকল্পনা করা হয়। আমাকে গ্রেফতার করে চোখ বেঁধে, হাত বেঁধে উল্টো করে নির্যাতন করা হয়। তবুও থেমে থাকিনি, কারণ চাইনি দেশের মানুষ এভাবে নির্যাতনের শিকার হোক।”
তিনি আরও বলেন, “২০১৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে আমি একাই রাজু ভাস্কর্যের সামনে অনশন শুরু করি। তিন দিনের মধ্যে দেশজুড়ে শিক্ষার্থী-জনতা আমার সাথে সংহতি জানায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয় সেই পরীক্ষা বাতিল করতে। এই আন্দোলনের পর থেকে আর কখনও প্রশ্নফাঁসের খবর পাওয়া যায়নি।”
আখতার হোসেন বলেন, “বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যার পর আমি ভারতবিরোধী ‘আট স্তম্ভ’ নির্মাণ করি, যা পরদিন বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেয়া হয়। এরপর আমাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে গিয়ে চোখ বেঁধে, হাত বেঁধে বর্বর নির্যাতন করা হয়। দুই সপ্তাহ আমি হাঁটু গেড়ে নামাজ পড়তে পারিনি। তবুও পিছু হটিনি।”
ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক থাকাকালে নিজের সততার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমার জন্য বরাদ্দ ছিল ১২ লাখ টাকা, আমি খরচ করেছি সাড়ে চার লাখ। প্রতিটি খরচের হিসাব ভাউচারসহ বুঝিয়ে দিয়েছিলাম। আমি দেখাতে চেয়েছিলাম দুর্নীতি ছাড়া কাজ করা সম্ভব।”
আখতার হোসেন আরও বলেন, “আমার জীবনের লক্ষ্য বাংলাদেশকে অনিয়মমুক্ত, নিয়ম মানার রাষ্ট্রে পরিণত করা। নির্বাচিত হলে সরকারের প্রতিটি বরাদ্দের তথ্য ইউনিয়ন ও উপজেলা কার্যালয়ে টাঙিয়ে দেব, যাতে মানুষ জানতে পারে কোথায় কী কাজ হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “আমি যখন এই মাদ্রাসায় পড়তাম, তখন বাবার লাইব্রেরির বই বিক্রি করে পড়াশোনা চালিয়েছি। আজ আবার আপনাদের কাছে এসেছি বিক্রি করতে — জিনিস নয়, বরং স্বপ্ন — একটি সুশাসিত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন।”
তিন দিনের সফরে সোমবার (১০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রংপুরে পৌঁছান আখতার হোসেন। এরপর রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনের বিভিন্ন এলাকায় মতবিনিময় সভা, উঠান বৈঠক ও জনসংযোগ করেন। এসময় তিনি ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন। সভায় বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।