নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
লাখো মানুষের অংশগ্রহণে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (তারিখ) দুপুর আড়াইটায় এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজায় অংশ নেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ ছাড়া উপদেষ্টা পরিষদের অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। জানাজার আগে ধর্ম উপদেষ্টা খালিদ হোসেন মরহুম হাদির জীবনবৃত্তান্ত পাঠ করেন। এরপর বক্তব্য রাখেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। পরে বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সবশেষে আবেগঘন বক্তব্য রাখেন মরহুমের বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক। এ সময় জানাজাস্থলে উপস্থিত অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। জানাজার নামাজে ইমামতি করেন আবু বকর সিদ্দিক।
জানাজায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ গণঅধিকার পরিষদ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। এ ছাড়া সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানও জানাজায় উপস্থিত ছিলেন।
শনিবার সকাল থেকেই রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জানাজায় অংশ নিতে মানুষের ঢল নামে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও মানুষ জানাজায় যোগ দিতে আসেন। সংসদ ভবনের চারপাশ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। আসাদগেট, ফার্মগেট, খামারবাড়িসহ আশপাশের এলাকায় মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়।
নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে দলে দলে মানুষ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে আসেন। এ সময় তারা ‘আমরা সবাই হাদি হব যুগে যুগে লড়ে যাব’, ‘হাদি ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’—এমন নানা স্লোগান দেন। অনেকের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা।
এর আগে সকাল ১১টা ২০ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের প্রধান গেট খুলে দেওয়া হয়। জানাজা ঘিরে সংসদ ভবন এলাকা, খামারবাড়ি ও ধানমন্ডি এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।
এদিকে শাহবাগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হওয়ার কথা রয়েছে শরিফ ওসমান হাদির। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশের কাজী নজরুল ইসলাম স্কয়ারে তার কবর খোঁড়ার কাজ শুরু হয়।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর সোয়া ২টার দিকে রাজধানীর বিজয়নগরে রিকশায় যাওয়ার সময় শরিফ ওসমান হাদির ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। মোটরসাইকেলে আসা দুজন দুর্বৃত্ত খুব কাছ থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানেই বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়।