নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনেও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের বড় অংশ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। ফলে অন্তত ৭৯টি আসনে বিএনপির জন্য গলার কাঁটা হয়ে রয়েছেন ৯২ জন বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী থাকায় তাদের অনেককেই বহিষ্কার ও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ছিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে ১১৭টি আসনে বিএনপির অন্তত ১৯০ জন নেতা বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। এর মধ্যে কয়েকজনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে বাতিল হয়েছে, অনেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতা শেষ পর্যন্ত মাঠে থেকে গেছেন। এ পর্যন্ত ১০ জনকে দলের সব পর্যায়ের পদ-পদবি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীতেও একজন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। তিনি হলেন ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক জসিম উদ্দিন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় তাকে গত ২৯ ডিসেম্বর জামায়াত থেকে বহিষ্কার করা হয়।
ঢাকায় তিন আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী
ঢাকার তিনটি সংসদীয় আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন।
ঢাকা-৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী হামিদুর রহমানের বিপরীতে মাঠে আছেন বিএনপি নেতা ইসহাক সরকার।
ঢাকা-১২ আসনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হকের বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি নেতা সাইফুল আলম নীরব।
ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি। তার বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক সাজু, যাকে ইতোমধ্যে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিভিন্ন জেলায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের অবস্থান
পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা হাসান মামুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। এ আসনে বিএনপি শরিক দল গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে সমর্থন দিয়েছে।
ঝিনাইদহ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বিএনপির জেলা সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক রুমিন ফারহানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। এখানে বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা জুনায়েদ আল হাবীব। রুমিন ফারহানাকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।
যশোর-৫ আসনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহীদ মো. ইকবাল হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।
সিলেট-৫ আসনে জেলা বিএনপির সহসভাপতি মামুনুর রশিদ প্রার্থী হয়েছেন। এ আসনে জোট প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ উবায়দুল্লাহ ফারুক। মামুনুর রশিদকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ শাহ আলম ও মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন—উভয়কেই বহিষ্কার করা হয়েছে।
নির্বাচন পরিস্থিতি
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ৩০০ আসনে মোট ২ হাজার ৫৮২টি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। মঙ্গলবার ছিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। তবে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের ক্ষেত্রে নতুন তফসিল অনুযায়ী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্রোহী প্রার্থীদের উপস্থিতি জোটের প্রার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে এবং অনেক আসনেই ভোটের হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিতে পারে।